May 2026
ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, এটি চোখের সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাগুলোর একটি ঘটাতে পারে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সময়মতো সচেতনতা, নিয়মিত চেকআপ ও আধুনিক চিকিৎসায় এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভিশন আই হসপিটাল, ঢাকা-এ আমরা প্রতিদিন ডায়াবেটিক রোগীদের চোখের বিশেষ চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তশর্করা রেটিনার ছোট ছোট রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নালীগুলো ফুলে যায়, লিক করে বা অস্বাভাবিক নতুন রক্তনালী গজায়। ফলে রেটিনায় রক্তক্ষরণ, ফোলা (ম্যাকুলার এডিমা) এবং দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়। ডায়াবেটিস যত বেশি সময় ধরে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তত বেশি ঝুঁকি বাড়ে।
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। পরবর্তীতে দেখা দিতে পারে:
দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া
চোখের সামনে ফ্লোটার্স (কালো দাগ বা সুতোর মতো দেখা)
রাতে দেখতে অসুবিধা
রং ফ্যাকাশে দেখা
চোখের সামনে পর্দা নেমে আসার অনুভূতি
হঠাৎ দৃষ্টি হারানো
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি দুই ধরনের হতে পারে:
নন-প্রোলিফারেটিভ রেটিনোপ্যাথি (প্রাথমিক পর্যায়): রক্তনালী ফুলে যায় ও লিক করে।
প্রোলিফারেটিভ রেটিনোপ্যাথি (উন্নত পর্যায়): নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালী গজায়, যা সহজেই ফেটে রক্তক্ষরণ ঘটায় এবং রেটিনা ডিটাচমেন্টের ঝুঁকি তৈরি করে।
এছাড়া ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমা হলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উচ্চ শর্করার কারণে রেটিনায় তরল জমা হয় (এডিমা), রক্তক্ষরণ হয় বা ছানি তাড়াতাড়ি পড়ে। এগুলো আলোকে সঠিকভাবে ফোকাস করতে বাধা দেয়, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয় এবং ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ না থাকলেও রেটিনায় ক্ষতি শুরু হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত ডাইলেটেড ফান্ডাস পরীক্ষা করে সমস্যা ধরা পড়লে প্রথম দিকেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। টাইপ-১ ডায়াবেটিস হলে ৫ বছর পর থেকে এবং টাইপ-২ হলে ডায়াগনোসিসের সময় থেকেই বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
আজকাল অনেক উন্নত চিকিৎসা রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে সাহায্য করে। চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়ের উপর।
লেজার ফটোকোয়াগুলেশন: লিক করা রক্তনালী সিল করে দেয় এবং নতুন রক্তনালী গজানো কমায়। এটি অফিস প্রক্রিয়ায় করা হয়।
অ্যান্টি-VEGF ইনজেকশন (Avastin, Eylea, Lucentis): রেটিনার ফোলা কমায় এবং অস্বাভাবিক রক্তনালী গজানো বন্ধ করে। কয়েক মাস অন্তর দিতে হয়।
উন্নত ক্ষেত্রে ভিট্রেক্টোমি সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
চোখের চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো HbA1c নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ। ভালো নিয়ন্ত্রণে থাকলে রেটিনোপ্যাথি হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায় এবং বিদ্যমান সমস্যার অগ্রগতি ধীর হয়।
রক্তশর্করা নিয়মিত মনিটর করুন
সুষম খাবার খান ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ধূমপান ত্যাগ করুন
চোখ শুষ্ক হলে ডাক্তারের পরামর্শে ড্রপ ব্যবহার করুন
সানগ্লাস ব্যবহার করে UV রশ্মি থেকে রক্ষা করুন
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখলে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন
হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হলে
অনেক ফ্লোটার্স বা আলোর ঝলকানি দেখলে
চোখে পর্দা নেমে আসার অনুভূতি হলে
তীব্র মাথাব্যথা বা চোখে ব্যথা হলে
দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হলে
এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে নিয়মিত চোখের যত্ন নিলে সুস্থ দৃষ্টিশক্তি অনেকদিন ধরে রাখা সম্ভব। ভিশন আই হসপিটাল, ঢাকা-এ অভিজ্ঞ রেটিনা স্পেশালিস্টদের তত্ত্বাবধানে আধুনিক লেজার, ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।
আজই আপনার ডায়াবেটিক রেটিনা স্ক্রিনিংয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন এবং চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।
John Doe
10 days agoLorem ipsum dolor, sit amet consectetur adipisicing elit. Perferendis cum illum facere in exercitationem assumenda corporis itaque excepturi molestias voluptas, quibusdam accusantium, quae dolore iste eum aliquam saepe eius iure.
John Doe
10 days agoLorem ipsum dolor, sit amet consectetur adipisicing elit. Perferendis cum illum facere in exercitationem assumenda corporis itaque excepturi molestias voluptas, quibusdam accusantium, quae dolore iste eum aliquam saepe eius iure.