Dec 2025
বর্তমান বাংলাদেশে শিশুদের চোখের পাওয়ার বাড়া একটি নীরব কিন্তু দ্রুত বেড়ে ওঠা সমস্যা। অনলাইন ক্লাস, মোবাইল গেম, ট্যাবলেট ও টিভির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খুব অল্প বয়সেই অনেক শিশুকে চশমা পরতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক বিষয়টিকে “স্বাভাবিক” মনে করে অবহেলা করেন, কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর পড়াশোনা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিশক্তির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ব্লগে আমরা সহজভাবে আলোচনা করবো-কেন শিশুর চোখের পাওয়ার বাড়ে, কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং কখন একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি।
শিশুর চোখের পাওয়ার বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসাথে কাজ করে। শিশুর চোখের পাওয়ার বাড়ার পিছনে দুটি প্রধান কারণ:
১. পরিবেশগত কারণ
দীর্ঘ সময় কাছের জিনিসে তাকিয়ে থাকা
পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না পাওয়া
চোখের বিশ্রামের অভাব
ভুল পড়ার ভঙ্গি
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো
২. জেনেটিক কারণ
বাবা-মায়ের মধ্যে যদি একজনেরও মায়োপিয়া থাকে, শিশুর ঝুঁকি ৩ গুণ বাড়ে। দুজনের থাকলে ৬ গুণ।
বাংলাদেশে শহরকেন্দ্রিক জীবনযাপন ও পড়াশোনার চাপ এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আজকের শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ ও টিভি। অনলাইন ক্লাসের পর আবার গেম বা ইউটিউব-ফলে চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
কোভিডের পর থেকে শিশুদের স্ক্রিন টাইম গড়ে ৪-৬ ঘণ্টা হয়ে গেছে। এর ফলে:
চোখের লেন্স অতিরিক্ত ফোকাস করে
চোখের অক্ষ দৈর্ঘ্য বাড়ে
প্রাকৃতিক আলোর অভাবে ডোপামিন নিঃসরণ কমে
এর ফলে ধীরে ধীরে মাইওপিয়া (দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
জেনেটিক্সের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না:
বাবা-মায়ের মায়োপিয়া থাকলে শিশুর ঝুঁকি বেশি
উচ্চ মায়োপিয়া (–৬.০০ বা তার বেশি) পরিবারে চলতে পারে
তবে জেনেটিক ঝুঁকি থাকলেও:
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা
সঠিক অভ্যাস
সময়মতো চিকিৎসা
এই সমস্যার অগ্রগতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রাথমিক লক্ষণ:
দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা
টিভি বা বোর্ডের কাছে গিয়ে বসা
চোখ কুঁচকানো বা মাথা ঝুঁকিয়ে দেখা
ঘন ঘন মাথাব্যথা
চোখে জ্বালাপোড়া বা ক্লান্তি
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধ সম্ভব - বিজ্ঞানসম্মত উপায়:
বাইরে খেলা বাড়ান - দিনে অন্তত ২ ঘণ্টা প্রাকৃতিক আলোয় থাকা মায়োপিয়া ৫০% কমায়।
স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন - ১০ বছরের নিচে দিনে ১ ঘণ্টা, তার বেশি বয়সে ২ ঘণ্টা।
২০-২০-২০ রুল - ২০ মিনিট পড়ার পর ২০ সেকেন্ড ২০ ফিট দূরে দেখুন।
সঠিক দূরত্ব - স্ক্রিন থেকে ৩০-৪০ সেমি দূরে রাখুন।
ভালো আলো - পড়ার সময় উপর থেকে আলো আসুক।
চোখের স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ:
ভিটামিন A: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক
ওমেগা-৩: মাছ (ইলিশ, রুই)
লুটেইন-জিয়াজ্যান্থিন: ডিমের কুসুম, সবুজ শাক
ভিটামিন C & E: লেবু, বাদাম
প্রতিদিনের খাবারে এগুলো যোগ করুন - চোখের বিকাশে সাহায্য করে।
নিচের যেকোনো অবস্থায় শিশুকে অবশ্যই চোখের ডাক্তারের কাছে নেওয়া উচিত-
চোখে পাওয়ার সন্দেহ হলে
স্কুলে বোর্ড দেখতে সমস্যা হলে
মাথাব্যথা বা চোখ ব্যথা নিয়মিত হলে
বছরে অন্তত একবার রুটিন চোখ পরীক্ষা
বিশেষ করে একটি অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত Vision Eye Institute and Hospital - এ পরীক্ষা করানো হলে শিশুর চোখের সম্পূর্ণ অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব।
সাধারণত ৫–৬ বছরের মধ্যে শিশুর চোখের পাওয়ার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, তবে স্ক্রিন টাইম বেশি হলে তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পেতে পারে।
হ্যাঁ। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকালে চোখের মাংসপেশি ক্লান্ত হয় এবং মাইওপিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
২০-২০-২০ নিয়ম, পর্যাপ্ত বাইরে খেলা, সঠিক আলোতে পড়াশোনা এবং সীমিত স্ক্রিন টাইম শিশুদের চোখ সুরক্ষায় সাহায্য করে।
চোখে অস্বস্তি, মাথাব্যথা, পড়াশোনায় অসুবিধা বা বারবার চোখের পাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত Best eye specialist in Bangladesh-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভিটামিন A সমৃদ্ধ গাজর, Omega-3 সমৃদ্ধ মাছ, ডিম, সবুজ শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং পাওয়ার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
শিশুর চোখের পাওয়ার বাড়া কোনো ছোট বিষয় নয়। এটি অবহেলা করলে ভবিষ্যতে কর্নিয়া বা রেটিনাজনিত জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং সময়মতো একজন দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আজই তার চোখের যত্ন নিন-কারণ পরিষ্কার দৃষ্টি মানেই উজ্জ্বল আগামী।
John Doe
10 days agoLorem ipsum dolor, sit amet consectetur adipisicing elit. Perferendis cum illum facere in exercitationem assumenda corporis itaque excepturi molestias voluptas, quibusdam accusantium, quae dolore iste eum aliquam saepe eius iure.
John Doe
10 days agoLorem ipsum dolor, sit amet consectetur adipisicing elit. Perferendis cum illum facere in exercitationem assumenda corporis itaque excepturi molestias voluptas, quibusdam accusantium, quae dolore iste eum aliquam saepe eius iure.