ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সম্পর্কে সতর্ক হোন।
- 29 Mar 2022
- Diabetic Retinopathy
Diabetic retinopathy
সবার প্রথমে আপনাদের একটু ওভারভিউ দিয়ে দিচ্ছি যে, এই জিনিসটা আসলে কি। সুগার যেটা কিনা ডায়াবেটিসের সমস্যা।যদি দীর্ঘদিন যাবত আপনার সুগার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে, অনেকদিন চেক না করা হয়, সময় মতো ঔষধ না নেওয়া হয়, তো এই সুগারের প্রভাব চোখের পর্দায় আসা শুরু করে।
চোখের পর্দা একটি অসুখ হয়ে যায় যাকে আমরা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলি। যদি এই রোগ সময়ের মধ্যে নির্ণয় করা যায়, যদি আপনার ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে ও চোখের দৃষ্টিতে সমস্যা হয় ও আপনি আপনার চোখের ডক্টরের সাথে সময়মত দেখা করেন তো আমরা চোখে ইনজেকশন বা লেজার ব্যবহার করে সমস্যাটা ঠিক করতে পারি।
কিন্তু এই রোগ যদি বেড়েই যায়, আর সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, শরীরের সুগার বেড়ে যায় পর্দায়ও রোগ শুরু হয়ে যায় এবং আপনি ডক্টররে সাথেও দেখা করছেন না, সমস্যাটা বেড়েই যাচ্ছে, তো একসময় এমন অবস্থায় চোখে রক্ত আসা শুরু হয়।
চোখের ভিতর জেল থাকে তা শুকাতে শুরু করে। এতে এমন অবস্থা হতে পারে যে পর্দা উঠে আসে আর রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদি এরকম ধরনের সমস্যা আসে তো আমাদের চোখের অপারেশন করে একে ঠিক করতে হয়।
এটা এমন একটি রোগ যা আমাদের চোখের পেছনে পর্দার উপর প্রভাব ফেলে।
যাদের ডায়াবেটিস আছে আর এর ব্যাপ্তি ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে বা ডায়াবেটিস আনকন্ট্রোল থাকে এসব রোগীদের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে এই ডায়াবেটিস প্রভাব ফেলতে পারে। শুরুর পর্যায়ে পর্দার উপর কিছু রক্তের দাগ আসে কলোস্ট্রোল লিক হওয়া শুরু করে।
যদি আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে একে নির্ণয় করে নিই তো তখন নরমাল ইনজেকশন বা লেজার দিয়ে চিকিৎসা করা যায়। আমরা রোগীর ভিশন রিস্টোর করতে সক্ষম হই।আর যদি রোগীর ডায়াবেটিস আনকন্ট্রোলে থাকে বা তার রেটিনা স্পেশালিস্ট কে চেকআপ না করায় আর সে তার ভিশন এর প্রবলেম কে ইগনোর করেন তাহলে এই ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। আর একটা পর্যায়ে এমন এসে যায় চোখের ভিতর রক্ত আসা শুরু করে। এই অবস্থাকে আমরা vitreous hemorrhage বলি।
আর যখন রক্ত আসে এর সাথে আমাদের যে vitreous jelly আছে এর উপরও টান পড়া শুরু হয়ে যায়। আর ওই জেলি যখন পর্দার উপর টান দেয়, তখন পর্দা নিজের জায়গা থেকে নড়তে শুরু করে।
এই অবস্থাকে আমরা বলি Tractional retinal detachment. এর মানে পর্দার উপর টান ধরা শুরু হয়,আর এটা নরমাল ভাবে কাজ করতে পারছে না।
যদি এই পর্যায়ে আমরা চিকিৎসকের কাছে না যাই আর চেকআপ না করি সঠিক চিকিৎসা না নেই তো এই পর্দা পুরোপুরি নিজের জায়গা থেকে সরে যায় এবং রোগী একেবারে অন্ধত্বের পর্যায়ে চলে যায়। আজ আমরা যে অপারেশন করতে যাচ্ছি এই রোগীর আমাদের কাছে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এর শেষ পর্যায়ে এসেছে।
যখন এই রোগির দুই চোখর দৃষ্টিশক্তি প্রায় বন্ধ হয়ে যায় আর পর্দার উপর রক্তক্ষরণ ও বাইরের অংশে অনেক বেশি কলোস্ট্রোল জমা হয়ে যায় তখন তিনি আসেন। এখন এই রোগীর চোখের মধ্যে পর্দার উপর যে ব্লাড এসেছে, টান এসেছে, সব আমরা সরাবো। আর মাঝে যে কলোস্ট্রোল এসেছে তা সময়ের সাথে সাথে নিজে নিজেই সরিয়ে ফেলে। কিন্তু রোগীর যদি এত দেরিতে ডাক্তারের সরনাপন্ন হয় তখন ট্রিটমেন্টের পরও 100% ভিশন রিস্টোর হয় না। সার্জারির মেইন পারপাস এটাই যে যতটা সম্ভব হয় ভিশনকে সার্জারির মাধ্যমে রিস্টোর করা হয়। আর রোগি ডে টু ডে নিজের কার্যক্রম করার উপযুক্ত হয়ে যায়।
No Comment